১০ স্মার্ট কন্টেন্ট নির্মাতাকে পুরস্কৃত করবে ইউএনডিপি-এটুআই
স্মার্ট কন্টেন্ট তৈরিতে সামরিক জাদুঘেরে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার সহযোগিতায় দেশে শিক্ষা-প্রযুক্তি-তথ্য-বিনোদন ভিত্তিক স্মার্ট কনটেন্ট নির্মাতা ও তরুণ উদ্ভাবক তৈরি করবে দেশের অলাভজনক সংস্থা ক্যাস্টওয়ে অন দ্য মুন (সিওটিএম) ও এসপায়ার টু ইনোভেট-এটুআই। সে লক্ষ্যে প্রায় দুই শতাধিক তরুণ উদ্ভাবক ও আগ্রহী কনটেন্ট নির্মাতাদের অংশগ্রহণে শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সামরিক জাদুঘরে হয়ে গেলো স্মার্ট বাংলাদেশ এক্সিলারেটর প্রোগ্রাম।
এই আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এই দেশজুড়ে তরুণ উদ্ভাবক ও কনটেন্ট নির্মাতাদের উৎসাহ দিতে একটি কনটেন্ট নির্মাণ প্রতিযোগিতা ক্যাম্পেইন আয়োজন করার ঘোষণা দেয় ইউএনডিপি ও এটুআই। তিনমাস ব্যাপী এই ক্যাম্পেইনে উদীয়মান কনটেন্ট নির্মাতারা এসডিজির ওপরে কনটেন্ট তৈরি করবেন। বিজ্ঞ বিচারকদের ভোটে সেরা ১০ নির্মাতাকে পুরস্কৃত করবে ইউএনডিপি ও এটুআই।
নাট্য ব্যক্তিত্ব সুমন পাটোয়ারী বলেন, তরুণ উদ্ভাবকরাই পারেন স্মার্ট সমাজ তৈরি করতে। দেশের তরুণদের মধ্যে অনেক সৃজনশীলতা লক্ষ্য করি। বর্তমান সময়ে হাজার হাজার তরুণ কনটেন্ট তৈরি বা উদ্ভাবন করে বিশেষ নজর কাড়ছেন। তাদেরকে উৎসাহিত করা আমাদের কাজ। শুধু একটা মোবাইল দিয়েই সুন্দর সুন্দর কনটেন্ট তৈরি করতে পারছেন। এই ধরনের আয়োজন নিঃসন্দেহে তাদের আরও উৎসাহিত করবে, নির্দেশনা দেবে এবং স্মার্ট সিটিজেন তৈরি করবে। এরাই একসময় স্মার্ট বাংলাদেশের প্রতিচ্ছ্ববি হবে আশা রাখি।
আয়োজনটি স্মার্ট সিটিজেন তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইউএনডিপি-এর বাংলাদেশ শাখার হেড অব কমিউনিকেশনস মোঃ আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, ‘ক্রিয়েটর অ্যাক্সিলারেটর প্রোগ্রামটি তরুণ উদ্ভাবকদের আরো অনুপ্রাণিত করবে। অংশগ্রহণকারীরা এমন একটি পরিবেশে নিজেকে নিমজ্জিত করার মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীল ভাবনাকে আরো উৎসাহিত করতে পারবে এবং তাদের যথার্থ পরিবর্তনের জন্য উক্ত প্রোগ্রামটি কার্যকর জ্ঞান প্রদান করবে। ভবিষ্যত গঠনের জন্য আয়োজনটি উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক এবং প্রযুক্তির রূপান্তরকারী শক্তির অনুসন্ধান করবে বলে আশা করি।’
আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল দেশের মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ।
এসময় সামাজিক সমস্যাকে সামনে রেখে কনটেন্ট নির্মাণে ফটোগ্রাফির গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করেন বিশিষ্ট ফটোগ্রাফার ব্যক্তিত্ব সাইফুল হক অমি। তিনি বলেন, ‘একটা ছবি হাজারও গল্প বলতে পারে। আমাদের আশ-পাশের ছোটছোট অসঙ্গতির গল্পগুলো ছবির লেন্সে ধারণ করে তুলে ধরে সমাজ পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
সবারই মানসিক দিকের গুরুত্ব দেয়ার কথা উল্লেখ করে মনের বন্ধু’র প্রতিষ্ঠাতা তৌহিদা শিরোপা বলেন, স্মার্ট সিটিজেনের প্রধান বিষয় হলো- নাগরিক নিজেই নিজেদের সমাধান হবেন। ‘আমিই সমাধান’ হবে লক্ষ্য। তা সামনে রেখে সবাইকে নিজের ও আশেপাশে মানুষের মানসিক সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ও ইউএনডিপি’র সহায়তায় পরিচালিত এসপায়ার টু ইনোভেট-এটুআই বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে এটুআই-এর ই-কমার্স ইম্প্লিমেন্টেশন এক্সপার্ট তৌফিক আহমেদ, সাইবার ৭১ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম হোসাইন, ও এটুআই-এর স্ট্র্যাটেজি কমিউনিকেশনস-এর পরামর্শক আশফাক জামান, ক্যাস্টওয়ে অন দ্য মুন (সিওটিএম) এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা শাহ জালাল আলিফ ও আরিফা শবনম সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন ।







